চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে। নৌ পরিবহনমন্ত্রীকে সভাপতি এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) চেয়ারম্যানকে সদস্যসচিব করে গঠিত এই কমিটির সদস্যসংখ্যা ৪১। গতকাল বুধবার নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সে অনুসারে আগের উপদেষ্টা কমিটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত কিছু দিন ধরেই চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। নৌমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও ব্যবসায়ীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। একপর্যায়ে গত ২ অক্টোবর চট্টগ্রামে আয়োজিত এক সভায় ব্যবসায়ীরা বন্দরের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে সুনির্দিষ্ট সমাধান চান। ওই সভায়ই দ্রুত নতুন একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠনের আশ্বাস দেন নৌমন্ত্রী।
গতকাল জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন কমিটি বন্দর ব্যবহারকারী ও এ সম্পর্কিত সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়, প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন এবং বন্দরের কার্যক্রম সম্পর্কিত সরকারি সার্কুলার, আইন বা বিধি সংশোধনের প্রয়োজনে সরকারকে সুপারিশ করতে পারবে। এই কাজের জন্য কমিটিকে প্রতি তিন মাসে অন্তত একটি সভা করতে হবে।
নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নবগঠিত উপদেষ্টা কমিটিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আফসারুল আমিন, পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রামের মেয়র, সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, আখতারুজ্জামান চৌধুরী, নুরুল ইসলাম বিএসসি, মঈনউদ্দিন খান বাদল, সামশুল হক চৌধুরী, আবদুল লতিফ মোস্তফা কামাল পাশা এবং চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র (এ বি এম মহিউদ্দীন চৌধুরী) কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে নৌসচিব, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার, চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার, স্থানীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম নৌবাহিনীর কমডর কমান্ডিং, শিপিং করপোরেশনের চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং কোস্টগার্ডের মহাপরিচালককেও সদস্য রাখা হয়েছে।
কমিটিতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, চট্টগ্রাম চেম্বার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার, শিপার্স কাউন্সিল, রিকন্ডিশন ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার অ্যাসোসিয়েশন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, অয়েল ট্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন, কার্গো ভেসেলস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন (সিবিএ), বার্থ অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন, কোস্টাল ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতিরা।
No comments:
Post a Comment