চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা দূর ও নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বার্থ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল দুপুরে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এ দাবি জানান।
তারা বলেন, বন্দরকে একটি অলাভজনক ও অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য শ্রমিক আন্দোলনের নামে অশ্রমিকরাই ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। চট্টগ্রাম বন্দর সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান, দেশের অর্থনীতির প্রাণস্পন্দন। তাই যারা বন্দরকে কথায় কথায় অচল করে দেওয়ার হুমকি দেয়, তারা দেশ ও জাতির শত্রু। এই ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতার করা না হলে তার খেসারত দিতে হবে বন্দর কর্তৃপক্ষকে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার থেকে ১২ নম্বর জেটিতে কনটেইনারবাহী জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে শ্রমিকরা বাধা দিলে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। ফলে শুক্রবার থেকে ১২, ১৩ ও ১০ নম্বর জেটিতে কোনো পণ্য খালাস হয়নি। এখন এই তিনটি জেটিতে তিনটি কনটেইনারবাহী জাহাজ অবস্থান করছে। বহির্নোঙরে রয়েছে ২৫টি পণ্যবাহী জাহাজ। বার্থ অপারেটর নেতারা জানান, এ কারণে বার্থ অপারেটর ও সংশ্লিষ্টদের প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া যেসব পণ্যবাহী জাহাজ এখন জেটিতে রয়েছে, সেখানে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের আমদানি পণ্য রয়েছে। এতে সরকারেরও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। নেতারা বলেন, যেসব শ্রমিক এখন বন্দরকে অচল করে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের দাবিগুলো অযৌক্তিক। তাই আন্দোলনরত শ্রমিকদের একটি অংশ কাজে যোগ দিতে প্রস্তুত। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য রাখেন বার্থ অপারেটর নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আ জ ম নাছির উদ্দিন, পারভেজ আহমেদ, মোহাম্মদ হাসান প্রমুখ।
Bangladesh Pratidin
11.10.10
No comments:
Post a Comment