Pages

Tuesday, December 7, 2010

আরো অনুদানের টাকা সরিয়েছিলেন ইউনূস

দেশে এখন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠছে। অথচ আজ থেকে এক দশক আগে (২০০০ সালে) গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর বিস্তারিত তদন্ত করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই তদন্তে শুধু নোরাডের আলোচিত তহবিলই নয়, সুইডিশ এবং কানাডিয়ান সিডা ও কেএফডাবি্লউর অনুদানের টাকাও নিয়মবহির্ভূতভাবে স্থানান্তর করার বিষয়টি ধরা পড়ে।

Wednesday, October 13, 2010

ব্যাপক সংঘর্ষে অচল চট্টগ্রাম বন্দর: আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শ্রমিকদের বৈঠক

ফারুক তাহের, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বন্দর পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। গতকাল ফের রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বন্দরের ১২ নম্বর বার্থ। বন্দরে নৌমন্ত্রীর আগমনের খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিকালে বন্দর চেয়ারম্যান আরইউ আহমেদ শ্রমিক নেতাদের নিয়ে বন্দরের ভিতরে প্রবেশ করে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বলেন। একপর্যায়ে তারা ১২ নম্বর বার্থ চালু করতে গেলে শত শত শ্রমিক বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার ফটক ডিঙিয়ে নেতাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বন্দরের কোনো কোনো কর্মকর্তা ও শ্রমিক নেতারা বন্দরের খালি কনটেইনার এবং শেডে আত্মগোপনও করেন। শেষে চারটি অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্রমিক নেতা ও কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে আনে নিরাপত্তাকর্মীরা। হামলায় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান খান, শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আহাদ, নওশাদ আলী ও সিদ্দিক আহত হন। শ্রমিক নেতাদের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকাল ৫টার দিকে বন্দরের অন্যান্য বার্থেও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে বন্দর ও বন্দর ভবনের আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় একজন সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ শ্রমিক আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতা মাহফুজুর রহমান খান। তবে অন্য সূত্রগুলো আহতের সংখ্যা আরো বেশি বলে দাবি করেছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বন্দরের রেস্ট হাউসে পৃথক দফায় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও বার্থ অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন।

বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ ছাড়াও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনালে (সিসিটি) বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছিল।

১২ নম্বর বার্থ অপারেটর শাহাদাত হোসেন সেলিম অভিযোগ করেন, সীমাহীন প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে এই অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের শ্রম পদ্ধতিকে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে টানা পাঁচ দিন ১২ নম্বর বার্থ ও তিন দিন ধরে ১০ ও ১৩ নম্বর বার্থ এবং দুই দিন ধরে ১২টি বার্থের কোনোটিতে কাজে যোগ দেননি শ্রমিকরা। ফলে বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ ও কনটেইনার বার্থে কোনো পণ্য লোডিং-আনলোডিং হয়নি। এতে বন্দরের ভিতরে এবং বহির্নোঙরে জাহাজ জট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত পণ্য খালাসের জন্য বন্দরের ভিতরে এবং জেটিতে ৩৪টি জাহাজ ভিড়েছে। বহির্নোঙরে রয়েছে ৭৪টি জাহাজ। এদের মধ্যে ৩০টি চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জানা গেছে, সোমবার গভীর রাত থেকে গতকাল বিকাল ৪টা পর্যন্ত ডক বন্দর শ্রমিক ফেডারেশন ও ডক শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বন্দর চেয়ারম্যান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে শ্রমিক নেতারা কাজে যোগ দিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করলেও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাদের দাবি না মানার আগে কোনোভাবেই কাজে যোগ দিতে রাজি হয়নি। বার্থ অপারেটরদের সমঝোতার ভিত্তিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক নেতারা বিভিন্ন আশ্বাস দিয়ে শ্রমিকদের বোঝাতে চাইলেও তারা দিনভর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বন্দর এলাকায়। তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে কাজে যোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। বন্দরের উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি আলাপের জন্য শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের আজ বিকাল ৫টায় ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। বৈঠকে বন্দর সমস্যার সন্তোষজনক সমাধান হবে বলে আশা করছেন সাধারণ শ্রমিকরা। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে তারা বন্দরের বার্থ চালুর বিরোধিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা।

এদিকে চিটাগাং চেম্বারের নেতৃত্বে গঠিত বন্দর কার্যক্রম মনিটরিং কমিটির ২য় সভায় চেম্বার নেতৃবৃন্দ বন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি তথা অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ খ্যাত বন্দরের এ লাগাতার অচলাবস্থার জন্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম চেম্বারের নেতারা বলেন, জাতীয় অর্থনীতির এ বিপুল ক্ষতির পিছনে কোনো অশুভ মহলের ষড়যন্ত্র বা অপতৎপরতা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। চেম্বার পরিচালক এসএম আবু তৈয়বের সভাপতিত্বে গতকাল অনুষ্ঠিত এ সভায় সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি সাতটি সুপারিশ করা হয়।

সভায় চেম্বার সহ-সভাপতি এসএম শফিউল হক, বিজিএমইএ'র এএম চৌধুরী (সেলিম), বিকেএমইএ'র শওকত ওসমান, বারভিডা'র মাহবুবুল হক চৌধুরী (বাবর), সিএন্ডএফ এজেন্টস্ অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু ও বন্দরবিষয়ক সম্পাদক লিয়াকত আলী হাওলাদার, শিপিং এজেন্টস প্রতিনিধি ও চেম্বার পরিচালক ওয়াসিউর রহমান চৌধুরী এবং সাবেক চেয়ারম্যান আহসানুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

Bangladesh Pratidin
13.10.10

Tuesday, October 12, 2010

Industrial Police approved

The Daily Amadershomoy - October 12, 2010

দুবাই ভ্রমণকারীদের জন্য এমিরেটস এয়ারলাইন্সের প্যাকেজ

'উইকএন্ড' প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এমিরেটস এয়ারলাইন্স। দুবাই ভ্রমণকারী বাংলাদেশিদের জন্য এ প্যাকেজ চালু করেছে সংস্থাটি। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্যাকেজটি কার্যকর থাকবে। ঢাকা থেকে যেসব যাত্রী বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুবাই গিয়ে শনি ও রোববার ফিরে আসবেন তারা এ প্যাকেজের আওতায় হ্রাসকৃত মূল্যে টিকিট পাবেন।
বাংলাদেশে এমিরেটসের নবনিযুক্ত এরিয়া ম্যানেজার সতীশ শেঠি গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠানে নতুন এ প্যাকেজ ঘোষণা দেন। রাজধানীর একটি হোটেলে ওই অনুষ্ঠানে সতীশ শেঠি বলেন, দুবাই ভ্রমণকারী বাংলাদেশিদের জন্য ইলেক্ট্রনিক ভিসাপ্রাপ্তি সহজ করা হয়েছে। এখন দু'দিনেই ভিসা পাওয়া যাচ্ছে। নতুন ভিসা পদ্ধতি চালু হওয়ার পর ভিসা আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়েছে।
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন এমিরেটসের মিডিয়া রিলেশন ম্যানেজার সায়োভান ভারডিট। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পাবলিক রিলেশন কর্মকর্তা কাজী ওয়াহিদ উল আলম।
সতীশ শেঠি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ভ্রমণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৩১ অক্টোবর লস এঞ্জেলেস এবং ১ নভেম্বর হিউস্টনে এমিরেটসের নতুন ফ্লাইট চালু হলে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এমিরেটসের সেবার মান আরও উন্নত করা হবে।
এমিরেটস বর্তমানে ঢাকায় সপ্তাহে ১৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে এবং ৬৪টি দেশের ১০৫টি গন্তব্যে সুবিধাজনক সংযোগ দিচ্ছে।

Daily Samakal
12.10.10

Monday, October 11, 2010

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এক হাজারতম এটিএম বুথ উদ্বোধন

Prothom Alo | Most popular bangla daily newspaper

চট্টগ্রাম বন্দরে সেনাবাহিনী চান বার্থ অপারেটররা

চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা দূর ও নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বার্থ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল দুপুরে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এ দাবি জানান।

তারা বলেন, বন্দরকে একটি অলাভজনক ও অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য শ্রমিক আন্দোলনের নামে অশ্রমিকরাই ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। চট্টগ্রাম বন্দর সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান, দেশের অর্থনীতির প্রাণস্পন্দন। তাই যারা বন্দরকে কথায় কথায় অচল করে দেওয়ার হুমকি দেয়, তারা দেশ ও জাতির শত্রু। এই ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতার করা না হলে তার খেসারত দিতে হবে বন্দর কর্তৃপক্ষকে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার থেকে ১২ নম্বর জেটিতে কনটেইনারবাহী জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে শ্রমিকরা বাধা দিলে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। ফলে শুক্রবার থেকে ১২, ১৩ ও ১০ নম্বর জেটিতে কোনো পণ্য খালাস হয়নি। এখন এই তিনটি জেটিতে তিনটি কনটেইনারবাহী জাহাজ অবস্থান করছে। বহির্নোঙরে রয়েছে ২৫টি পণ্যবাহী জাহাজ। বার্থ অপারেটর নেতারা জানান, এ কারণে বার্থ অপারেটর ও সংশ্লিষ্টদের প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া যেসব পণ্যবাহী জাহাজ এখন জেটিতে রয়েছে, সেখানে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের আমদানি পণ্য রয়েছে। এতে সরকারেরও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। নেতারা বলেন, যেসব শ্রমিক এখন বন্দরকে অচল করে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের দাবিগুলো অযৌক্তিক। তাই আন্দোলনরত শ্রমিকদের একটি অংশ কাজে যোগ দিতে প্রস্তুত। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য রাখেন বার্থ অপারেটর নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আ জ ম নাছির উদ্দিন, পারভেজ আহমেদ, মোহাম্মদ হাসান প্রমুখ।

Bangladesh Pratidin
11.10.10

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বহরে যুক্ত হলো নতুন দুটি বিমান

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বহরে নতুন দুটি বিমান যুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক রুটে অধিক ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্যে সুপরিসর 'এয়ারবাস-৩১০-৩০০' এবং 'এটিআর-৭২' এয়ারক্রাফট ইউনাইটেডের বিমানবহরে সম্প্রতি যুক্ত করা হয়েছে।
ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, নতুন এয়ারবাস এবং এটিআর ইউনাইটেডের বিমানবহরকে আরও শক্তিশালী করবে। 'এয়ারবাস-৩১০-৩০০' এবং 'এটিআর-৭২' যুক্ত হওয়ার আগের দুটি এমডি-৮৩ ও দুটি ড্যাশ-৮-১০০সহ ছয়টি এয়ারক্রাফট হলো ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বিমানবহরে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ পরিচালন ব্যয়কে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছি। তিনি জানান, 'এয়ারবাস-৩১০' ও 'এটিআর-৭২' সহজ এবং দক্ষ পরিচালনে সক্ষম। বিমান দুটি দ্রুতগতি ও অপেক্ষাকৃত কম ব্যয় সম্পন্ন যা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে যাত্রীসাধারণের জন্য কম ভাড়া নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে। নতুন এয়ারবাসে ১৮টি বিজনেস ক্লাস ও ১৮৩টি ইকোনমি ক্লাস এবং এটিআরে ৪টি বিজনেস ক্লাস ও ৬২টি ইকোনমি ক্লাস আসন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন 'এয়ারবাস-৩১০-৩০০' দিয়ে 'ঢাকা-দুবাই-লন্ডন-দুবাই-সিলেট' এবং 'ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা' রুটে এবং এটিআর-৭২ এয়ারক্রাফট দিয়ে অভ্যন্তরীণ সব রুটসহ ঢাকা-কলকাতা, ঢাকা-কাঠমান্ডু, ঢাকা-মিয়ানমার রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি।

ফয়'স লেকে কনকর্ড নির্মাণ করছে রিসোর্ট হোটেল

চট্টগ্রামের বিনোদনকেন্দ্র ফয়'স লেকের পাহাড়ি পরিবেশে কনর্কড এন্টারটেইনমেন্ট গড়ে তুলছে পাঁচ তারকা মানের রিসোর্ট হোটেল। লেক এবং পাহাড়ের কোলঘেঁষে নির্মিত হবে এ হোটেল। কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট কম্পানি জাহাজ আকৃতিতে এ পাঁচ তারকা হোটেলের নকশা করেছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম মনজুর আলম গতকাল রবিবার বিকেলে ফয়'স লেকের সী ওয়ার্ল্ডে এই পাঁচ তারকা হোটেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রস্তাবিত পাঁচ তারকা রিসোর্ট হোটেলে দুই ধারে লেক, এক পাশে পাহাড় এবং অন্য পাশে রয়েছে সী ওয়ার্ল্ড। পাঁচ তারকা হোটেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পাঁচ তারকা রিসোর্ট হোটেলে থাকবে আন্তর্জাতিক মানের লেকমুখী একশটি রুম, রেস্তোরাঁ, কনফারেন্স হল, বাচ্চাদের খেলার জায়গা, হেলথ ক্লাব, সুইমিং পুল, স্পা, ওয়াটার ফল, বিজনেস সেন্টারসহ অত্যাধুনিক সব সুবিধা।
পাঁচ তারকা হোটেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কনকর্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসকে লালা, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার কামাল, নির্বাহী পরিচালক শাহ কামাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Kaler Kantho
11.10.10

Friday, October 8, 2010

শেষ হলো রিটার্ন দাখিলের সময়

শেষ হলো রিটার্ন দাখিলের সময়। যারা নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল করতে পারেননি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
ওদিকে এনবিআর-এর প্রশাসনিক প্রধান ও পরিচালক বশির উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সময় বাড়ানোর আর কোন সুযোগ নেই। তিনি জানান, গত রাত ৮টা পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল হয়েছে ৬ লাখ ৭৫ হাজারের কিছু বেশি। অন্যদিকে সময় বাড়ানোর আবেদন পড়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার। এনবিআর কর্মকর্তারা আশা করছেন চলতি অর্থবছরে রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। এনবিআর-এর পলিসি বিভাগের প্রধান ও সদস্য আমিনুর রহমান বলেন, যারা গতকাল পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করেননি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রিটার্ন দাখিলের সময় আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা রিটার্ন দাখিল করেননি প্রথমে তাদের শোকজ করা হবে। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে জরিমানাও আদায় করা হবে। নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করার কারণে ফৌজদারি মামলারও বিধান রয়েছে। সূত্র জানায়, চলতি বছর মোট রিটার্নের ৫ লাখ ২৭ হাজার দাখিল হয়েছে ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বর্ধিত সময়ের ৭ দিনে রিটার্ন দাখিল করেছে এক লাখ ৫০ হাজার। তবে বর্ধিত সময়ের রিটার্ন দাখিল সন্তোষজনক নয় বলে এনবিআর সূত্র জানায়। এ সময়ে আয়কর বাবদ আদায় হয়েছে ৮৯৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এনবিআর কর্তৃপক্ষ বলছে, গত বছরের তুলনায় এবার নির্দিষ্ট সময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল হয়েছে দ্বিগুণ। গত অর্থবছর ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল হয় ২ লাখ ৭০ হাজার। এ সময়ে আয়কর বাবদ ৪৩৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা আদায় হয়েছিল। দু’দফা সময় বাড়ানোর পর গত বছর মোট রিটার্ন দাখিল হয়েছিল ছয় লাখ ৫৭ হাজার। জরিমানাসহ সারা বছর সুযোগ থাকায় মোট রিটার্ন দাখিল হয়েছিল আট লাখের কিছু বেশি। সূত্র জানায়, প্রতি বছরই ৩০শে সেপ্টেম্বর রিটার্ন জমা দেয়ার শেষ সময়। আয়কর আদেশ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতারা আয়কর বিবরণী জমা দিতে পারেন। তবে প্রতিবছরই সেপ্টেম্বর মাসের একেবারে শেষ সময়ে এসে সময়সীমা বাড়ানো হয়। ব্যবসায়ীদের চাপে এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। গতবছর এক মাস সময় বাড়ানো হয়েছিল। এবার বাড়ানো হয় ৭ দিন। এনবিআর’র কর জরিপ বিভাগের প্রধান ও সদস্য সমভুনাথ বললেন, আইনে আছে রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ৩০শে সেপ্টেম্বর। বিশেষ বিবেচনায় সরকার ৭ দিন সময় বাড়িয়েছিল। সময় বাড়ানোর এখতিয়ার এনবিআর’র নেই। এনবিআর’র নিয়ম অনুযায়ী, ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে কেউ কর দিতে না পারলে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই উপযুক্ত কারণসহ আবেদন করে সময় বাড়িয়ে নিতে পারে। এতে প্রথমে ৩ মাস। পরে আরও ৩ মাস বাড়িয়ে দেয়ার সুযোগ রয়েছে। এদিকে পূর্ব ঘোষিত সময়সীমা অনুযায়ী রিটার্ন জমা দেয়ার শেষ দিন গতকাল বিপুলসংখ্যক করদাতা কর কার্যালয়গুলোতে ভিড় জমান। এনবিআর সূত্র জানায়, গত অর্থবছরে আয়কর আদায় হয়েছিল ১৭ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ২১ হাজার ৫ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে।
Manab Zamin
08.10.2010

তিন হাজার কোটি টাকার লেনদেন

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেনে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুই বাজার মিলে ৩ হাজার ২৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এ লেনদেন এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ লেনদেন। এর মধ্যে ডিএসইতে ২ হাজার ৮০১ কোটি টাকা এবং সিএসইতে ২২৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। উভয় শেয়ারবাজারই চার দিনের ব্যবধানে এ রেকর্ড গড়ল। এর আগে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে উভয় শেয়ারবাজারে ২ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল।
গতকাল ডিএসইতে এক দিনে ৭টি নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে_ লেনদেন, বাজার মূলধন, সাধারণ মূল্যসূচক, ডিএসই সার্বিক মূল্যসূচক, ডিএসই-২০ মূল্যসূচক, শেয়ারের পরিমাণ এবং হাওলা। এ ৭টি নির্দেশকের সবই অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থান করছে। দিন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে ২ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। একইভাবে সিএসইর বাজার মূলধনও বেড়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। বৃহস্পতিবারের লেনদেন চিত্রে দেখা গেছে, অন্যান্য খাতের তুলনায় ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে বৃহস্পতিবার ২৮টি ব্যাংকের শেয়ারের দাম বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারে প্রতিদিনই নতুন বিনিয়োগকারী আসছেন। ফলে তারল্য প্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে। যে কারণে লেনদেন ও মূল্যসূচক বাড়ছে। ডিএসইতে ২৪১টি কোম্পানির ১৫ কোটি ৩০ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার মোট মূল্য ছিল ২ হাজার ৮০১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা; যা আগের দিনের চেয়ে ৩৬৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বেশি। ডিএসই সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৬৭ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট বেড়ে ৭ হাজার ৪৮০ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ডিএসই-২০ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৩৪ দশমিক
২৫ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৪০৭ দশমিক ১৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনকৃত ২৪১টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৮৮টির, কমেছে ১৪৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪টির। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ৩ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
এ ব্যাপারে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ সমকালকে বলেন, বাজারে প্রতিদিন নতুন বিনিয়োগকারী আসছেন। ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে প্রতিদিন শত শত নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে। ফলে বাজারে তারল্য প্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাজারে শেয়ারের সরবরাহ কম। কিন্তু টাকা বেশি, ফলে শেয়ারের দাম বাড়বেই। তিনি আরও বলেন, শেয়ারবাজারে লাভ হচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এ বাজারের দিকে ঝুঁকছেন।
বৃহস্পতিবার ডিএসইতে যেসব কোম্পানির শেয়ার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হলো_ সামিট পাওয়ার ১০৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, পিপলস লিজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড ৯৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংক ৮১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, এক্সিম ব্যাংক ৭৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, বেক্সিমকো লিমিটেড ৭৬ কোটি ২১ লাখ টাকা, ইউসিবিএল ৬৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা, প্রাইম ফাইন্যান্স ৬২ কোটি ৪০ লাখ টাকা, লংকা-বাংলা ফাইন্যান্স ৬২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, স্কয়ার ফার্মা ৫৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা এবং এবি ব্যাংক লিমিটেড ৫৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সেগুলো হলো_ ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ইউসিবিএল, কে অ্যান্ড কিউ, এক্সিম ব্যাংক, অ্যাম্বি ফার্মা, জেমিনি সি ফুড, ঢাকা ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক। আর যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে সেগুলো হলো_ গোল্ডেন সন, এইমস ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, এপেক্স উইভিং, সাভার রিফ্রেক্টরিজ, দেশ গার্মেন্টস, যমুনা ব্যাংক, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স ও পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ১৮৮টি কোম্পানির ১ কোটি ৬৫ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার মোট মূল্য ছিল ২২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৭০টি কোম্পানির শেয়ারের, কমেছে ১১৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে দুটি কোম্পানির শেয়ারের দাম। সিএসই সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৯০ দশমিক ৯০ পয়েন্ট বেড়ে ২১ হাজার ৮০৯ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। সিএসই-৩০ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ২৬৭ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৭ হাজার ৬২২ দশমিক ৭২ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। সিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ২ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

Daily Samokal
08 October 2010

Thursday, October 7, 2010

চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনায় নতুন উপদেষ্টা কমিটি

চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে। নৌ পরিবহনমন্ত্রীকে সভাপতি এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) চেয়ারম্যানকে সদস্যসচিব করে গঠিত এই কমিটির সদস্যসংখ্যা ৪১। গতকাল বুধবার নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সে অনুসারে আগের উপদেষ্টা কমিটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত কিছু দিন ধরেই চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। নৌমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও ব্যবসায়ীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। একপর্যায়ে গত ২ অক্টোবর চট্টগ্রামে আয়োজিত এক সভায় ব্যবসায়ীরা বন্দরের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে সুনির্দিষ্ট সমাধান চান। ওই সভায়ই দ্রুত নতুন একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠনের আশ্বাস দেন নৌমন্ত্রী।
গতকাল জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন কমিটি বন্দর ব্যবহারকারী ও এ সম্পর্কিত সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়, প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন এবং বন্দরের কার্যক্রম সম্পর্কিত সরকারি সার্কুলার, আইন বা বিধি সংশোধনের প্রয়োজনে সরকারকে সুপারিশ করতে পারবে। এই কাজের জন্য কমিটিকে প্রতি তিন মাসে অন্তত একটি সভা করতে হবে।
নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নবগঠিত উপদেষ্টা কমিটিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আফসারুল আমিন, পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রামের মেয়র, সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, আখতারুজ্জামান চৌধুরী, নুরুল ইসলাম বিএসসি, মঈনউদ্দিন খান বাদল, সামশুল হক চৌধুরী, আবদুল লতিফ মোস্তফা কামাল পাশা এবং চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র (এ বি এম মহিউদ্দীন চৌধুরী) কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে নৌসচিব, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার, চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার, স্থানীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম নৌবাহিনীর কমডর কমান্ডিং, শিপিং করপোরেশনের চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং কোস্টগার্ডের মহাপরিচালককেও সদস্য রাখা হয়েছে।
কমিটিতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, চট্টগ্রাম চেম্বার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার, শিপার্স কাউন্সিল, রিকন্ডিশন ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার অ্যাসোসিয়েশন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, অয়েল ট্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন, কার্গো ভেসেলস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন (সিবিএ), বার্থ অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন, কোস্টাল ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতিরা।

Tender of Skyway in November

The Daily Amadershomoy - October 7, 2010

র্যাবের নির্যাতন মামলা মার্কিন আদালতে প্রবাসীর পৌনে ২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

নিউ ইয়র্ক থেকে এনা: ১/১১ পরবর্তী জরুরি সরকারের আমলে র্যাব (র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন) কর্তৃক নিউ ইয়র্কের প্রবাসী ওয়ার্ল্ডটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাঈম চৌধুরীকে নির্যাতনের মামলায় ওয়াশিংটন ডিসির অপর প্রবাসী ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশ হোল্ডিং-এর মালিক আমজাদ হোসেন খানের পৌনে দুই মিলিয়ন ডলার তথা প্রায় ১৩ কোটি টাকা জরিমানা হয়েছে।
নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত ইউএস ফেডারেল কোর্ট এ রায় দেয় ‘টর্চার ভিকটিম প্রটেকশন অ্যাক্ট’ অনুযায়ী। এ আইনে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যে কোন দেশে সংঘটিত অপকর্মের বিচার করার এখতিয়ার রয়েছে ফেডারেল কোর্টের। বাংলাদেশের দুই প্রবাসীর মধ্যে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে র্যাব দিয়ে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তার এ মামলার রায়কে প্রবাসীরা স্বাগত জানিয়েছেন। আরও যারা এহেন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন বা হচ্ছেন- তারাও ফেডারেল কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা যায়। মামলাটি পরিচালনা করেন নাঈম মাহতাব চৌধুরীর পক্ষে এটর্নি মার্ক এ রবার্টসন এবং বিবাদীপক্ষ আমজাদ হোসেনের পক্ষ অবলম্বন করেন এটর্নি এরিক চার্লটন।

যুক্তরাজ্যে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণের পর নিউ ইয়র্ক প্রবাসী নাঈম মাহতাব চৌধুরী ‘ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামক একটি কোম্পানি গঠন করেন ২০০০ সালের ১২ই জুন। বিবাদী আমজাদ হোসেন খানের মালিকানাধীন ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশ হোল্ডিং ২০০১ সালে ‘ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশ লিমিটেড’-এর শেয়ারহোল্ডার হয়। ঢাকায় মাল্টি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বাংলাদেশে টেলিফোন সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ‘ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশ লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০০১ সালের ১২ই জুলাই বাংলাদেশ সরকার ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশ লিমিটেডকে ২৫ বছরের লাইসেন্স প্রদান করে টেলিফোন সংযোগ প্রদানের ব্যবসা করার। এরপর তারা টেলিফোন নেটওয়ার্কের কাজ শুরু করে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন অ্যাক্ট অব ২০০১ প্রণয়ন এবং বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) গঠন করা হয়। ২০০৪ সালের ২০শে এপ্রিল এই কমিশনের নির্দেশে ‘ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশ লিমিটেড’র কাজকর্মে সীমাবদ্ধতা আসে। এ কারণে ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশ হোল্ডিং নিজেদের ‘ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশ লিমিটেড’ থেকে গুটিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ অবস্থায় যুক্তরাজ্যস্থ ওয়ার্ল্ডটেল লিমিটেডের মূল অভিভাবক কোম্পানির কার্যক্রম যুক্তরাজ্যে নিষ্ক্রিয় করার পরিকল্পনা নেয়।

ফলে ওয়ার্ল্ড কমিউনিকেশন ইনভেস্টমেন্টস ইন করপোরেটেড নামক আরেকটি প্রতিষ্ঠান ঢাকায় ‘ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশ লিমিটেড’ কর্তৃক ক্রয়কৃত যাবতীয় দ্রব্যসামগ্রী কিনে নেয় বাংলাদেশে চলমান নেটওয়ার্কিং অব্যাহত রাখতে। উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ড কমিউনিকেশন ইনভেস্টমেন্টস ইন করপোরেটেডের মালিক নাঈম চৌধুরী এবং ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশ লিমিটেডের ৯৯.৪৬% শেয়ার তিনি কিনে নেন। অবশিষ্ট ০.০৫৪% শেয়ার ক্রয় করে ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশ হোল্ডিং কোম্পানি। আর এই ০.০৫৪% শেয়ারের দৌড়ে পুরো কোম্পানি গ্রাস করার অভিলাষে ১/১১ পরবর্তী কেয়ারটেকার সরকারের দাপটে আমজাদ খান র্যাব দিয়ে নাঈম চৌধুরীকে অকথ্য নির্যাতন করেন। এ অভিযোগ করেছেন নাঈম চৌধুরী। তিনি বলেন, আমজাদ খানের মালিকানাধীন বাংলা ফোন রয়েছে ঢাকায় এবং তার বেশির ভাগ শেয়ার তার। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী একই ব্যক্তি একত্রে একাধিক টেলিফোন কোম্পানির লাইসেন্স বহন করতে পারেন না। উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশ হোল্ডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন টড কিরনান। তিনিও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ২০০৭ সালে তিনি ওই কোম্পানি ত্যাগের আগে নাঈম চৌধুরীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মামলা করেন। সে মামলায় দাবি করা হয়, নাঈম চৌধুরীর কোন অধিকার নেই ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার। এছাড়া নাঈম চৌধুরী তার ঋণের আবেদনে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নেন বলেও উল্লেখ করা হয় ওই মামলায়। এ মামলার আগেই বাংলাদেশ সরকারের পৃথক দু’টি সংস্থা ব্যাপক তদন্ত করে ওই সব অভিযোগের জবাবে জানায়, নাঈম চৌধুরী কোন জালিয়াতি করেননি এবং তিনি ওয়ার্ল্ডটেলের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্য। ঢাকার চিফ মেট্রপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওই তদন্ত রিপোর্ট নথিভুক্ত করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আরেকবার তদন্ত করা হয়। তারাও ওই তদন্ত রিপোর্টের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।

২০০৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর নাঈম চৌধুরী এক বৈঠকে মিলিত হন ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশ হোল্ডিংয়ের সঙ্গে। বৈঠক হয় ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশের শেয়ারগুলো ওয়ার্ল্ড কমিউনিকেশন ইনভেস্টমেন্টস ইন করপোরেটেডের সঙ্গে একীভূত করা নিয়ে। ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশ হোল্ডিংয়ের শেয়ারগুলোও ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশের সঙ্গে একীভূত করতে আমজাদ হোসেন খান মত দেন অর্থাৎ ওই বৈঠকের পর ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশ হোল্ডিংয়ের আর কোন সম্পর্ক নেই নাইম চৌধুরীর মালিকানাধীন ওয়ার্ল্ড কমিউনিকেশন ইনভেস্টমেন্টস ইন করপোরেটেডের সঙ্গে। এ সময় নাঈম চৌধুরীর কাছ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার নেন বাংলাদেশ হোল্ডিংয়ের মালিক পক্ষ। এ সময় অবশ্য বাংলা ফোনের কোপার সার্ভিসে যাবতীয় সহায়তা দেবে ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশ- এ বিষয়টি বহাল থাকে। সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল। এমনি অবস্থায় ১/১১-তে গঠিত কেয়ারটেকার সরকারের জরুরি শাসন শুরুর পর আমজাদ হোসেন খান নিজের দাপট খাটিয়ে র্যাবকে প্রভাবিত করেন। এর বহির্প্রকাশ ঘটে এখতিয়ার না থাকা সত্ত্বেও নাঈম চৌধুরীকে ধরে নিয়ে দীর্ঘদিন অকথ্য নির্যাতনের মাধ্যমে। মামলায় প্রমাণিত হয়েছে যে, নাঈম চৌধুরীর কাছে অবৈধ সুবিধা নেয়ার অভিপ্রায়েই র্যাব দিয়ে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে এবং জেলেও রাখা হয়েছিল। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, র্যাবের একজন কর্মকর্তাও অকপটে স্বীকার করেছেন যে তারা আমজাদ হোসেন খানের অনুরোধেই নাঈম চৌধুরীকে নির্যাতন করেছেন। নাঈম চৌধুরী মাননীয় আদালতকে জানিয়েছেন, র্যাবের কথিত নির্যাতন সেলে তাকে কিভাবে কষ্ট দেয়া হয়েছে। অথচ যে অভিযোগে তাকে ধরে নেয়া হয় চোখ বেঁধে, সে অভিযোগের কোন ভিত্তি পায়নি সরকারের লোকজন- এটি আগেই প্রমাণিত হওয়ার পরও আমজাদ হোসেন খানের আবেদনকে কিভাবে র্যাব গ্রাহ্য করলো তা খতিয়ে দেখার অবকাশ রয়েছে বলে মনে করছেন প্রবাসীরা। এছাড়া অর্থনৈতিক বিষয়ে র্যাবের আদৌ কোন কর্তৃত্ব রয়েছে কিনা সেটিও স্পষ্ট হওয়া জরুরি। তা না হলে নিকট ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে এ ধরনের আরও অনেক মামলার উদ্ভব হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ মামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ফেডারেল কোর্টও জানলো যে র্যাব কিভাবে নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালিয়ে র্যাব বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে- এখন প্রবাসীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে র্যাবের প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্বকে হালকা করা হলো। নিজেদের এখতিয়ার না থাকা সত্ত্বেও অন্যকে সন্তুষ্ট করার জন্য অন্যায়ভাবে প্রবাসীদের হেনস্থা করার ঘটনাটি নিয়ে সরকারের নীতি-নির্ধারকরা কি ভাবছেন তা এখন দেখার পালা। মামলার বাদী নাঈম চৌধুরী বলেছেন, মাতৃভূমিতে বিনিয়োগ করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জিত হলো তা যেন আর কোন প্রবাসীর জীবনে নেমে না আসে। তবে আমি হাল ছাড়িনি। বাংলাদেশের আইন যদি ঠিকমতো কাজ না করে বিশ্বায়নের এ যুগে, তবে আমরা আন্তর্জাতিক আইনেও বিচার পেতে সক্ষম হবো।

এদিকে মামলার সর্বশেষ পরিস্থিতির ব্যাপারে জানতে চাইলে আমজাদ খানের এটর্নি এরিক চার্লটন ৫ই অক্টোবর বলেছেন, তারা জুরি ট্রায়ালের পর যে রায় দেয়া হয়েছে তার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। তবে আপিলের শুনানির তারিখ এখনও ধার্য হয়নি।

Manab Zamin
07 October 2010

মুদ্রার মান কমিয়ে রাখার প্রয়াসে উদ্বিগ্ন আইএমএফ

Prothom Alo | Most popular bangla daily newspaper

মিরসরাইয়ে বিসিক শিল্পনগর হচ্ছে

Prothom Alo | Most popular bangla daily newspaper