অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেনে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুই বাজার মিলে ৩ হাজার ২৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এ লেনদেন এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ লেনদেন। এর মধ্যে ডিএসইতে ২ হাজার ৮০১ কোটি টাকা এবং সিএসইতে ২২৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। উভয় শেয়ারবাজারই চার দিনের ব্যবধানে এ রেকর্ড গড়ল। এর আগে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে উভয় শেয়ারবাজারে ২ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল।
গতকাল ডিএসইতে এক দিনে ৭টি নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে_ লেনদেন, বাজার মূলধন, সাধারণ মূল্যসূচক, ডিএসই সার্বিক মূল্যসূচক, ডিএসই-২০ মূল্যসূচক, শেয়ারের পরিমাণ এবং হাওলা। এ ৭টি নির্দেশকের সবই অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থান করছে। দিন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে ২ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। একইভাবে সিএসইর বাজার মূলধনও বেড়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। বৃহস্পতিবারের লেনদেন চিত্রে দেখা গেছে, অন্যান্য খাতের তুলনায় ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে বৃহস্পতিবার ২৮টি ব্যাংকের শেয়ারের দাম বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারে প্রতিদিনই নতুন বিনিয়োগকারী আসছেন। ফলে তারল্য প্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে। যে কারণে লেনদেন ও মূল্যসূচক বাড়ছে। ডিএসইতে ২৪১টি কোম্পানির ১৫ কোটি ৩০ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার মোট মূল্য ছিল ২ হাজার ৮০১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা; যা আগের দিনের চেয়ে ৩৬৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বেশি। ডিএসই সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৬৭ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট বেড়ে ৭ হাজার ৪৮০ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ডিএসই-২০ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৩৪ দশমিক
২৫ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৪০৭ দশমিক ১৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনকৃত ২৪১টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৮৮টির, কমেছে ১৪৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪টির। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ৩ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
এ ব্যাপারে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ সমকালকে বলেন, বাজারে প্রতিদিন নতুন বিনিয়োগকারী আসছেন। ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে প্রতিদিন শত শত নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে। ফলে বাজারে তারল্য প্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাজারে শেয়ারের সরবরাহ কম। কিন্তু টাকা বেশি, ফলে শেয়ারের দাম বাড়বেই। তিনি আরও বলেন, শেয়ারবাজারে লাভ হচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এ বাজারের দিকে ঝুঁকছেন।
বৃহস্পতিবার ডিএসইতে যেসব কোম্পানির শেয়ার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হলো_ সামিট পাওয়ার ১০৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, পিপলস লিজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড ৯৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংক ৮১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, এক্সিম ব্যাংক ৭৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, বেক্সিমকো লিমিটেড ৭৬ কোটি ২১ লাখ টাকা, ইউসিবিএল ৬৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা, প্রাইম ফাইন্যান্স ৬২ কোটি ৪০ লাখ টাকা, লংকা-বাংলা ফাইন্যান্স ৬২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, স্কয়ার ফার্মা ৫৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা এবং এবি ব্যাংক লিমিটেড ৫৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সেগুলো হলো_ ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ইউসিবিএল, কে অ্যান্ড কিউ, এক্সিম ব্যাংক, অ্যাম্বি ফার্মা, জেমিনি সি ফুড, ঢাকা ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক। আর যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে সেগুলো হলো_ গোল্ডেন সন, এইমস ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, এপেক্স উইভিং, সাভার রিফ্রেক্টরিজ, দেশ গার্মেন্টস, যমুনা ব্যাংক, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স ও পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ১৮৮টি কোম্পানির ১ কোটি ৬৫ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার মোট মূল্য ছিল ২২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৭০টি কোম্পানির শেয়ারের, কমেছে ১১৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে দুটি কোম্পানির শেয়ারের দাম। সিএসই সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৯০ দশমিক ৯০ পয়েন্ট বেড়ে ২১ হাজার ৮০৯ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। সিএসই-৩০ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ২৬৭ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৭ হাজার ৬২২ দশমিক ৭২ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। সিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ২ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
Daily Samokal
08 October 2010
No comments:
Post a Comment