পবন আহমদ
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের ২ লাখ বিও অ্যাকাউন্ট ঝুঁকির মুখে। নবায়ন ফি বাড়ার নতুন নিয়ম না জানার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক ধারণা করছে। ফলে ২৭ লাখ অ্যাকাউন্টধারী থাকলেও ৭০ ভাগ অ্যাকাউন্ট নবায়ন হয়েছে বলে জানিয়েছে বিও অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা-সিডিবিএল।
তাদের বক্তব্য, ওই নবায়নের সময়সীমা শেষ হয়ে এলেও তা পরিশোধ করতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া ২৭ লাখ বিও সেকেন্ডারি মার্কেটে না থাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ৩০শে সেপ্টেম্বর নবায়নের শেষ তারিখ হলেও মাত্র ৭০ ভাগ বিও নবায়ন হয়েছে। ব্রোকারেজ হাউজের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, অনেক বিনিয়োগকারী রয়েছেন যারা ঢাকার বাইরে থেকে শেয়ার ব্যবসা করছেন। তারা ঢাকায় কখন কি নিয়ম-কানুনের পরিবর্তন হচ্ছে তা জানেন না। তাছাড়া কিছু দিন আগে তারা বিও ফি পরিশোধ করেছেন। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন নতুন করে ফি পরিশোধ করার প্রয়োজন নেই। এদিকে বিও অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ২০০ টাকা সরকার বাড়ায়; এ বিষয়ে তারা জানতেন আগামী বছর থেকে তা কার্যকর হবে। কিন্তু হঠাৎ করে এসইসি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। ৩১শে জুলাই নবায়নের শেষ সময় হলেও ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নবায়ন ফি’র সময় বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে উল্লেখ করে নতুন নবায়ন ফি এরই মধ্যে পরিশোধ করার। এসইসি এবং সিডিবিএলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছুতেই আর নতুন করে অ্যাকাউন্ট নবায়নের সময়সীমা বাড়ানো হবে না। তারা বলেন, বিনিয়োগকারীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে আমরা দু’মাস সময়সীমা বাড়িয়েছি। এর পরও যদি তারা (অ্যাকাউন্ট হোল্ডাররা) সময়মতো বিও ফি পরিশোধ না করেন তা হলে আমাদের কিছু করার নেই। অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তারা এসইসি’র খেয়ালি সিদ্ধান্তের শিকার হচ্ছেন। তারা জানান, হঠাৎ করে বিও ফি বর্ধিত করার খবরটি অনেকেই জানেন না। ফলে তারা সময়মতো ফি পরিশোধ করতে পারবেন না। ব্রোকারেজ হাউজ ঘুরে জানা গেছে, এসইসি’র বেঁধে দেয়ায় সময়সীমার মধ্যে
বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী বিও পরিশোধ করতে ব্যর্থ হবে। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, কিছুদিন আগে বিও ফি পরিশোধ করায় অনেকেই আর খোঁজখবর নিচ্ছেন না। কারণ, আগামী এক বছরের জন্য অ্যাকাউন্ট নবায়ন হয়েছে বলে তারা নিশ্চিত রয়েছেন। আবার নতুন করে ফি বর্ধিত করা হয়েছে এ কথা অনেকেই জানেন না। সেজন্য অ্যাকাউন্ট বাতিল হওয়ার শঙ্কাও বেশি। তারা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সময় বৃদ্ধি না করলে কয়েক লাখ বিও বাতিল হবে। এদিকে বিও অ্যাকাউন্ট নবায়ন করার সময় বৃদ্ধি করা হবে কিনা এ ব্যাপারে জানার জন্য সিডিবিএলের পরিচালক শুভ্রকান্তি চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, সময়সীমা বাড়ানোর ব্যাপারে আমরা এখনও কোন চিন্তা ভাবনা করিনি। একই প্রতিষ্ঠানের অন্য একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ২৭ লাখ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে এই স্বল্প সময়ের মধ্যে বর্ধিত ফি আদায় করা সত্যিই কষ্টকর। কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ চাইলে এ সময়সীমা বর্ধিত করা সম্ভব। বর্ধিত ফি না দিলে অ্যাকাউন্ট বাতিলের সংখ্যা কত হতে পারে এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর সংখ্যা সঠিক করে বলা সম্ভব নয়। তবে সময় শেষ হতে চললেও বিও নবায়নের তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না সেই হিসাবে ধারণা করা যেতে পারে এর সংখ্যা গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ হবে। গতবার বিও ফি পরিশোধ না করায় বাদ পড়েছিল এক লাখ অ্যাকাউন্ট। কয়েকদিন আগে বার্ষিক ফি না দেয়ায় এক লাখ বিও বাতিল হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার বাতিলের সংখ্যা তিনগুণ হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ বর্ধিত ফি’র কথা অনেকেই জানেন না। অপরদিকে এ ব্যাপারে কয়েকটি হাউজের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, এই চার্জ আদায় করার জন্য যে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে তা ২৭ লাখ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে আদায় করা একটি অসম্ভব ব্যাপার। তারা বলেন বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী এই খবর জানেন না। তাদের জানানোর জন্য যদিও আমরা হাউজে বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পাশাপাশি কেউ কেউ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছি। তারপরও বর্ধিত বিও ফি দিতে বিনিয়োগকারীরা আশানুরূপভাবে হাউজমুখী হচ্ছেন না। এর একটিই কারণ, বিও ফি যে বর্ধিত করা হয়েছে এ বিষয়টি তারা জানেন না। এ প্রসঙ্গে সিনথিয়া ব্রোকারেজ হাউজের কমপ্লায়েন্স অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত তিনদিনে আমাদের হাউজে বধির্ত ফি দিয়েছে এমন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ৩০০’র বেশি হবে না। এখনও সময় রয়েছে, আশা করছি বিনিয়োগকারীরা এই সময়ের মধ্যে চার্জ পরিশোধ করবেন। তিনি বলেন, অনেক বিনিয়োগকারী রয়েছেন যারা সেকেন্ডারি মার্কেটে ব্যবসা করেন না। অন্যদিকে এমন নিয়ম নেই যে বিনিয়োগকারীদের স্থায়ী ঠিকানায় চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেবো। এবার অ্যাকাউন্ট বাতিলের সংখ্যা কেমন হতে পারে এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে ধীর গতিতে অ্যাকাউন্ট নবায়ন হচ্ছে এমন চলতে থাকলে গড়ে প্রতি হাউজ থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ অ্যাকাউন্ট বাতিল হবে। এদিকে নতুন বিও ফি বাড়ানোকে নেতিবাচক হিসাবে দেখছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা বলেন, বিছুদিন আগে আমরা যখন বিও ফি পরিশোধ করলাম তখন এই বর্ধিত ফি কেন আদায় করা হলো না? কর্তৃপক্ষ যখন খুশি তখন একটি নিয়ম চালু করে তাদের স্বার্থ হাসিল করে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কথা তারা কিছুই ভাবেন না!
Manob Jamin // 23.09.2010
No comments:
Post a Comment